অধ্যক্ষ ও আইনজীবী মো. দেলদার রহমান দিলুকে পঞ্চগড় জেলা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মো. আব্দুল লতিফকে জেলা এনসিপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ইন্তেকাল করায় উক্ত পদে সৃষ্ট শূণ্যতা পূরণ ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে মো. দেলদার রহমান দিলুকে পঞ্চগড় জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব প্রদান করা হলো।
মো. দেলদার রহমান দিলুর গ্রামের বাড়ি বোদা উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামে। তিনি মৃত দারাজউদ্দীন আহম্মেদ এর ষষ্ঠ সন্তান। তিনি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মা গৃহিনী। তিনি ১৯৯৩ সালে রাস্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে এলএলবি এবং ২০১০ সালে বার কাউন্সিল সনদ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় পৌর শহরের ডোকরোপাড়ার বাসিন্দা। স্ত্রী মোছা. শামীমা নাজনীন বোদা উপজেলার নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ। দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় কন্যা সাবেক ক্যাডেট, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। ছোট কন্যা পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
তিনি পঞ্চগড় বিসিকনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। তিনি বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ (বিএমটি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি, প্রিন্সিপাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কারিগরি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার মিঠাপুকুর টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, পঞ্চগড় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম মহিলা কলেজ, বোদা উপজেলার ডিআর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম মহিলা ইন্সটিটিউট ও নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এসবিইউজিএস এর নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা স্টাডি অ্যান্ড রিসার্স সেন্টারের উপদেষ্টা, ঢাকা জজ কোর্ট, ঢাকার সিএমএম কোর্ট ও পঞ্চগড় জজ কোর্টের তালিকাভূক্ত আইনজীবী।
সাত ভাই ও চার বোনের মধ্যে সকল ভাই সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এক বোন কলেজ শিক্ষক।
তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০০৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং ২০১৬ সালে প্রথম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নেন এবং সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০২২ সালের দ্বিতীয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচনে অংশ নেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাকে সদস্য সচিব করায় দল আরো সংগঠিত হবে। দলের গতিশীলতা বাড়বে, তৃণমূলে দল আরো শক্তিশালী হবে।
জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির আসাদ বলেন,পঞ্চগড় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব পদটি দীর্ঘসময় খালি থাকায় নতুন সদস্য সচিব নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। উদ্যমী নেতৃত্ব মাঠ পর্যায়ে দলের কার্যক্রমকে বেগবান করবে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।