ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান ক্যাপিস্টোন ফেলো এনডিসি শুক্রবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমপি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের বাংলাদেশে নিযুক্ত মাননীয় রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Yao Wen-এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং বিশেষভাবে ইএসডিও’র ডেইরি ভ্যালু চেইন প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানের মোজারেলা চিজ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের উত্তরাঞ্চলের উর্বর কৃষিভূমি, বিপুল দুধ উৎপাদন এবং দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক Dairy Hub হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, দুধকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি “Milk Revolution” সৃষ্টি করা সম্ভব, যা শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারেও নতুন পরিচিতি এনে দিতে পারে। এ লক্ষ্যে পাস্তুরিত দুধ শিল্প, পনির ও মোজারেলা চিজ উৎপাদন, দই ও ঘি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসক্রিম কারখানা স্থাপন এবং শিশু খাদ্য ও পুষ্টিকর দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মতো বহুমাত্রিক শিল্পায়নের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও শুধু একটি কৃষি জেলা হিসেবেই নয়, বরং Agro-Industrial Growth Model হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুগ্ধ শিল্পকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইএসডিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের’ আওতায় স্কুলব্যাগ ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশের শিশুদের ভালোভাবে লেখা পড়া করাত চান। এজন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ,ই, ইয়াও ওয়েন।