• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম :
বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত, বোদায় পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও র‍্যালি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের টিউবওয়েল ও সেলাই মেশিন বিতরণ জনগণের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ আজাদ বিগত সময়ে বিদ্যুৎ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- পঞ্চগড়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তেঁতুলিয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে ‘পাঠ্যক্রম ভিত্তিক নাট্যভাবনা’ বিষয়ক  প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  পঞ্চগড় জেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করা হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  বাড়ির আঙিনায় মরদেহ রেখে দ্রুত চলে যান আসামিরা তেঁতুলিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে ‘পাঠ্যক্রম ভিত্তিক নাট্যভাবনা’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু স্পোকেন ইংলিশ ওয়ার্কশপ শেষ পঞ্চগড়ে ভজনপুর বেগম খালেদা জিয়া বালিকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন, সভাপতি হলেন লাবু

মন্তব্য প্রতিবেদন: একটি মানববন্ধন : নানা প্রশ্ন

আশরাফুল ইসলাম তুফান / ৩১৬ জন দেখেছে
আপডেট : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে গ্রীণ টি নামের বন্ধ চা কারখানাটি চালুর দাবিতে শ খানেক ক্ষুদ্র চা চাষী ও শ্রমিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্মারকলিপি দিয়েছে। কয়েকজন পছন্দের গণমাধ্যমকর্মীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সংবাদও পরিবেশন করিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো কারখানাটি বন্ধ কেন? বন্ধ এ কারণে যে নিবন্ধন না নিয়ে চা কারখানাটি ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চা উৎপাদন করে। উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ চা নিলাম মার্কেটে না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্ছিত হয়। ফলে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ চা বোর্ড এটি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে চা চাষীসহ চা সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চা বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। অনেকেরই মত চা চাষীদের স্বার্থ নয় কারো ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এমন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান? তাদের  দাবী এতে করে সহস্রাধিক চা চাষী বিপাকে পড়েছে। আসলে কি সহস্রাধিক চা চাষী বিপাকে পড়েছে? না কোন চাষীই বিপাকে পড়েনি। কারণ পঞ্চগড় জেলায় আরো ৩০ টি চা কারখানা রয়েছে। ওই চা কারখানাটির আশে পাশেও বেশ কয়েকটি চা কারখানা রয়েছে। কাজেই চাষীরা বিপাকে পড়েনি। চাষীরা ঠিকই অন্য কারখানাগুলোতে চা পাতা বিক্রি করতে পেরেছে। তাদের দাবী গত চা মৌসুমে সমতলের চা জাতীয় উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে কারখানাটি। কারখানাটি এবার বন্ধ থাকলে জাতীয় উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং চা চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এটা মেটেও ঠিক নয়। অবৈধভাবে চা উৎপাদন করে কালো বাজারে উৎপাদিত চা বিক্রি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কারখানাটি অপরাধ করেছে। এটি বন্ধ থাকলে জাতীয় উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না, চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না এবং সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠার কোন আশঙ্কা নেই এটা হলপ করে বলতে পারি। বাংলাদেশ চা বোর্ড একাধিকবার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু মালিক পক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেনি। এমন একটি অন্যায় অনার্য্য দাবি নিয়ে প্রায় ১০ হাজার চা চাষীর মধ্যে মাত্র শ খানেক চা চাষীর মানববন্ধন ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এমন মানববন্ধনে বাংলাদেশ চা বোর্ড সাড়া দিয়ে শুধু স্বল্প টপরিমাণ জরিমানা আদায় করে চালু করলে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হবে। এটা করা হলে অন্যায় করেও পার পাওয়া যায় প্রতীয়মান হবে?

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের এক বড় নেতার আর্শিবাদে ও প্রভাবে এই কারখানাটি প্রায় ছয় বছর ধরে অবৈধভাবে চা উৎপাদন করে নিলাম মার্কেটে চা বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রি করেছে। যা একটি গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই কারখানাটির মালিকানা নিয়েও রয়েছে বিরোধ। এসব বিষয় বিবেচনা করেই চা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানাই।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, কারখানাটি নিবন্ধন না করাসহ কাগজপত্রের নানা জটিলতায় মাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালিকানা নিয়েও রয়েছে জটিলতা। কারখানাটি চালু হলে ভালো তবে এটি চালু না হলে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। চা চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। জেলায় বিকল্প ৩০ টি চা কারখানা রয়েছে। ওই কারখানাটির আশে পাশে আরো কারখানা রয়েছে। গত বছর বন্ধ করে দিলেও চাষীরা অন্য কারখানাগুলোতে ন্যায্য মূল্যে চা পাতা বিক্রি করতে পেরেছে। সামনে শুনানি হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে হয়তো কারখানাটি চালু হতে পারে।

স্মারকলিপিতে যে সব দাবি জানানো হয়েছে, তা কেবল অযৌক্তিক, অন্যায়, অনৈতিক নয় এটা বেআইনী। কাজেই আমি বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট দাবি জানাবো যদি চা কারখানাটি জরিমানা নিয়ে চালু করতেই হয়। তাহলে গত ছয় বছরের  প্রকৃত কর ফাঁকির হিসেবে করেই জরিমানা নির্ধারণ করা। বাংলাদেশ চা র্বোড অতীতের মত সাহসী পদক্ষেপ নিবেন বলে আশা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ