“স্বপ্ন জয় করে এগিয়ে চলো জ্ঞানের পথে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাহমিদা সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পঞ্চগড় সদর।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোট ৪৭ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৮নং ধাক্কামারা ইউনিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ১১ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। এটি শুধু ওই ইউনিয়নের জন্য নয়, পুরো সদর উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি অভিভাবকদের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা যেন দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে, সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন বলেন, পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা এখন শুধু জেলা নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তোমরা যে সাফল্য অর্জন করেছ, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। জীবনের প্রতিটি ধাপে সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, স্বপ্ন দেখতে হবে বড়, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে জ্ঞান, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা যে সাফল্য অর্জন করছে, তা জেলার জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন বক্তারা।
সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় তারা আজ এই অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা শুধু আমাদের আনন্দই দেয়নি, আমাদের দায়িত্ববোধও বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই। সমাজ ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্যে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাব।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন অতিথিরা। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।