পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে গত এক সপ্তাহে ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ দেবীগঞ্জ পৌর সদরে অভিযান চালিয়ে শাহেদ আলম, রুবেল ইসলাম ও জুয়েল ইসলাম নামে তিন মাদকসেবীকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর ৩০ মার্চ একই এলাকায় মো. রশিদুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক, শাহিন আলম, রশিদুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ ও জহিরুল ইসলামকে ১ বছর করে এবং সোনাহার ক্লাবগঞ্জ এলাকার নাইস ইসলাম ও হাসিবুল ইসলামকে ৬ মাস করে সাজা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ এলাকায় মাদকের আসরে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত তাদের প্রত্যেককে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. হানিফ, মো. মিস্টার আলী, হানিফ আলী, জহুরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, রনি ইসলাম, সুমন ইসলাম, তোকির আলম, কমল রায়, রাগিব ইয়াসার ও মামুনুর রশিদ।
এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেবীগঞ্জে মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে। এ থেকে মুক্তি পেতে এমন অভিযান অত্যন্ত জরুরি।” তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কোনোভাবেই ছাড় দিচ্ছি না। দেবীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে।”
এদিকে, এলাকাবাসী মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।