পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি সপ্তাহের অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও তার হৃদয়ের টান সবসময় বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের প্রতিই থাকে।
তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের কাজে আমাকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ঢাকায় থাকতে হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু আমার মন, প্রাণ ও আত্মা পড়ে থাকে বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের কাছে।”
তিনি বলেন, বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নই, আমি সকল মানুষের প্রতিনিধি। তাই যার প্রাপ্য, তাকে তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সহায়তা ও সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আত্মীয়-স্বজন, ভাই-চাচা-মামা কিংবা যাদের টিনের ঘর ও ২০-৩০ বা ৫০ বিঘা জমি ছিল, তারাও বিভিন্ন সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের এই সহায়তা প্রকৃত অসহায় মানুষের জন্য। আমরা হয়তো সবাইকে সহায়তা করতে পারব না, তবে যাদের অধিকার রয়েছে, তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে হবে।”
আর্থিক সহায়তার তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার অবস্থান পরিষ্কার। এ বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ আমাকে সম্মান দিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। যতদিন বেঁচে আছি দেবীগঞ্জ-বোদার মানুষের একটি টাকাও যেন আমার পকেটে না ঢুকে।”
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা মিথ্যা স্লোগানের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে সরকার ও দল তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।”
আজ সোমবার দুপুর দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন তবারক হ্যাপিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ১ হাজার ৫ শত জন অসহায় মানুষকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা