রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটায় বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযান এর একটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেট বিশ্লেষণ এবং বাস্তবায়নে করণীয় তুলে ধরতে “কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা” বিষয়ক একটি প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক ও এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তবে জিডিপির মাত্র ১.৭৯ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ১৩.০৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এখনও ইউনেস্কোর ৪-৬ শতাংশ জিডিপি ও ১৫-২০ শতাংশ সরকারি ব্যয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনেক নিচে রয়েছে। বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ডিজিটাল শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও শিখন ঘাটতি মোকাবিলা, প্রাথমিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫-৬ শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট অর্থায়ন রোডম্যাপের বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই বরাদ্দ বৃদ্ধি অবশ্যই স্বাগত, কিন্তু এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং একটি সুস্পষ্ট জাতীয় শিক্ষা ভিশন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত রূপান্তর অর্জন সম্ভব হবে না।”
উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইএসআরটি)-এর অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক ও এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ব্রিফিং শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুর রউফ।